Uncategorized

নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা গাহের আলী মন্ডল: পরিচিতি পর্ব ১২

এক নীরব ঈদের দিন, স্মৃতি ও সংকল্পের গল্প:

পবিত্র ঈদের দিন—যে দিনটি আনন্দ, মিলন আর খুশির প্রতীক—সেই দিনটিই কখনো কখনো মানুষের জীবনে বয়ে আনে গভীর বেদনা আর নীরবতার ভার। নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গাহের আলী মন্ডলের জীবনের শেষ অধ্যায়ে এমনই এক আবেগঘন ও স্মরণীয় ঈদের অভিজ্ঞতা তাঁর পরিবারের জন্য চিরস্থায়ী হয়ে আছে।

সেদিন ছিল ঈদের সকাল। চারদিকে তাকালে দেখা যায় নতুন পোশাকে সজ্জিত মানুষ, শিশুদের হাসি, ঈদগাহমুখী জনস্রোত—সবকিছুই যেন স্বাভাবিক নিয়মে চলছিল। কিন্তু গহের আলী মন্ডলের পরিবারে ছিল এক ভিন্ন দৃশ্য। শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন। তাঁর শরীর এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল যে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য ঈদগাহ ময়দানে যাওয়ার মতো শক্তি তাঁর আর অবশিষ্ট ছিল না।

তাঁর দুই ছেলে, মোঃ আব্দুল আলীম এবং মোঃ গোলাম মোস্তফা, মন ভেঙে যাওয়া অবস্থায় ঈদগাহ ময়দানে রওনা হন। তারা জানতেন, তাঁদের বাবা যিনি সারাজীবন পরিবার ও সমাজের জন্য কাজ করেছেন, আজ তিনি নিজেই ঈদের এই পবিত্র জামাতে অংশ নিতে পারছেন না। ঈদের নামাজ শেষে তারা যখন বাড়িতে ফিরে আসেন, তখন তাদের মনে ভেসে ওঠে এক বছর আগের সেই ঈদের স্মৃতি।

মাত্র ১০ মাসের ব্যবধানে কীভাবে সবকিছু বদলে গেল—এটি যেন তাদের কাছে এক অবিশ্বাস্য বাস্তবতা। ২০২৫ সালের ঈদে গাহের আলী মন্ডল ছিলেন সুস্থ-সবল, প্রাণবন্ত। তিনি তাঁর নাতিদের সঙ্গে ঈদগাহ ময়দানে যাওয়ার পথে হাঁটছিলেন, কথা বলছিলেন, হাসছিলেন। সেই মুহূর্তগুলো ছিল আনন্দে ভরা, প্রাণে ভরা।

কিন্তু ২০২৬ সালের এই ঈদে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বিছানায় শুয়ে আছেন, নীরব, ক্লান্ত, দুর্বল। তাঁর চোখে হয়তো ছিল অনেক কথা, কিন্তু মুখে প্রকাশ করার মতো শক্তি ছিল না। খাবার গ্রহণও ছিল খুবই সীমিত—মাত্র অল্প কিছু খেতে পারতেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘিরে ছিলেন, কিন্তু সবার মধ্যে ছিল এক অজানা আশঙ্কা—হয়তো সামনে কিছু ঘটতে চলেছে।

তাঁর দুই ছেলে, আব্দুল আলীম এবং গোলাম মোস্তফা, গভীরভাবে অনুভব করছিলেন সময়ের এই নির্মম পরিবর্তন। তারা একদিকে অতীতের সুখের স্মৃতিতে ডুবে যাচ্ছিলেন, অন্যদিকে বর্তমানের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছিলেন। “গত বছর আর এই বছর”—এই তুলনা যেন তাদের হৃদয়কে ভারী করে তুলছিল।

গাহের আলী মন্ডলের দুই নাতি সবসময় তাঁর পাশে ছিল। তারা দাদার প্রতি ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধ থেকে সর্বোচ্চ যত্ন নিচ্ছিল। যখনই কোনো পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক কিছু অনুভব করত, তখনই তারা সতর্ক হয়ে যেত। এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই পরিবারের ভেতরের ভালোবাসা আর বন্ধনের গভীরতা প্রকাশ করে।

ঈদের দিনেও পরিবারের সদস্যরা খুব অল্প পরিমাণে খাবার গ্রহণ করছিলেন। যেন আনন্দের পরিবর্তে এক ধরনের শোক আর নীরবতা পুরো ঘরজুড়ে ছড়িয়ে ছিল। তারা চেষ্টা করছিলেন গাহের আলী মন্ডলকে একটু হলেও খাওয়াতে, একটু শক্তি জোগাতে। কিন্তু সবাই বুঝতে পারছিলেন—এই সময়টা খুবই স্পর্শকাতর।

অবশেষে, সেই আশঙ্কা সত্যি হলো। ২০২৬ সালের ২৪ মার্চ, বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে, গাহের আলী মন্ডল ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, বরং পুরো নাগা বাজার এলাকার জন্য ছিল এক বিশাল ক্ষতি। তিনি শুধু একজন মানুষ ছিলেন না—তিনি ছিলেন একটি স্বপ্ন, একটি উদ্যোগ, একটি প্রেরণা।

গাহের আলী মন্ডলের একটি বড় স্বপ্ন ছিল—নাগা বাজারকে এমন একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, যেখানে এলাকার বেকার মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। তিনি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে অনেকটাই এগিয়েছিলেন, কিন্তু সম্পূর্ণ করতে পারেননি। তাঁর জীবনের এই অসমাপ্ত কাজ আজ তাঁর পরিবারের জন্য একটি দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাঁর দুই ছেলে, মোঃ আব্দুল আলীম এবং মোঃ গোলাম মোস্তফা, আজ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যে তারা তাদের বাবার সেই স্বপ্ন পূরণ করবেন। বাবার অনুপস্থিতিতে তারা নাগা বাজারকে আরও উন্নত, আরও কর্মসংস্থানমুখী একটি স্থানে পরিণত করতে চান। তাদের এই সংকল্পই প্রমাণ করে—গহের আলী মন্ডলের স্বপ্ন আজও জীবিত, তাঁর পরিবারের মধ্য দিয়ে।

এই ঈদটি ছিল তাদের জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক, কিন্তু একই সঙ্গে সবচেয়ে শিক্ষণীয় একটি দিন। এটি তাদের শিখিয়েছে জীবনের অনিশ্চয়তা, সময়ের মূল্য এবং পরিবারের বন্ধনের গুরুত্ব।

গাহের আলী মন্ডলের জীবন এবং তাঁর শেষ ঈদের এই অধ্যায় আমাদের মনে করিয়ে দেয়—একজন মানুষের স্বপ্ন কখনো তার মৃত্যুর সাথে শেষ হয় না। বরং তা বেঁচে থাকে তার উত্তরসূরিদের মধ্যে, তাদের কাজের মাধ্যমে, তাদের প্রতিজ্ঞার মধ্যে।

Top of Form

Bottom of Form

সৌজন্যে,

নাগা বাজার,কাতিলা, বাগমারা, রাজশাহী।

Naga Bazar

https://maps.app.goo.gl/KysRdKpcucccKrFF9

Messar’s Mokseda Pharmacy

https://maps.app.goo.gl/uiqdpFghgYRvKffZA

Messar’s D.K. Pharmacy

https://maps.app.goo.gl/wnkbwqLpkfZdcQCp8

https://maps.app.goo.gl/iN6Pczd5nuRcoBws8

Naga Vila

https://maps.app.goo.gl/MfK3zdyyoE3HSrtz8

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *