Uncategorized

নাগা বাজারের বিকাশের নেপথ্যে পেশাজীবী ও সমাজসেবামুখী সংগঠক মোঃ আব্দুল আলীম

মোঃ আব্দুল আলীম

নাগা বাজারের বিকাশের নেপথ্যের একজন নীরব সহযোগী, পেশাজীবী ও সমাজসেবামুখী সংগঠক

কোনো একটি বাজারের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের ইতিহাস কেবল দোকানপাট, ক্রেতা-বিক্রেতা কিংবা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস নয়। এর পেছনে থাকে বহু মানুষের শ্রম, স্বপ্ন, ত্যাগ, পারিবারিক সহযোগিতা এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক প্রচেষ্টা। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কাতিলা এলাকার নাগা বাজার (Naga Bazar)-এর বিকাশের ইতিহাসেও এমন কিছু মানুষের অবদান রয়েছে, যাঁরা দীর্ঘদিন সামনে না এসে নেপথ্যে থেকে কাজ করেছেন। তাঁদের মধ্যে মোঃ আব্দুল আলীম , প্রয়াত মোঃ গাহের আলী মণ্ডলের জ্যেষ্ঠ সন্তান, অন্যতম।

আব্দুল আলীমের পরিচয় একদিকে একজন পেশাজীবী হিসেবে, অন্যদিকে একজন পরিবারের দায়িত্বশীল সদস্য এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত সংগঠক হিসেবে। তাঁর পিতা প্রয়াত মোঃ গাহের আলী মণ্ডল নাগা বাজার প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। পিতার সেই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে আব্দুল আলিম দীর্ঘ সময় নেপথ্যে থেকে সহযোগিতা করেছেন। ছোট ভাই মোঃ গোলাম মোস্তফা-এর সঙ্গে তিনি পারিবারিকভাবে তাঁদের বাবা-মায়ের পাশে থেকে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে নাগা বাজারের বিকাশের ইতিহাসে তাঁর ভূমিকা মূলত দীর্ঘদিনের নীরব সহযোগিতা ও পারিবারিক দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত।

শৈশব, শিক্ষা ও পারিবারিক পরিবেশ

মোঃ আব্দুল আলীমের জন্ম ৭ মে ১৯৮২। তাঁর পিতা প্রয়াত মোঃ গাহের আলী মণ্ডল এবং মাতা মোছাঃ নাসিমা বেগম। তিনি চার ভাই-বোনের মধ্যে জ্যেষ্ঠ পুত্র। তাঁর দুই বোন হলেন মোছাঃ সূরজান বিবি ও মোছাঃ আকলিমা বেগম এবং ছোট ভাই মোঃ গোলাম মোস্তফা।

কাতিলা ও বাগমারার সামাজিক পরিবেশেই তাঁর শৈশব ও কৈশোরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিবাহিত হয়। তিনি বীরকুৎসা অবিনাশ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে বনপাড়া ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০০০ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ২০০৪ সালে বি.ফার্ম এবং ২০০৬ সালে এম.ফার্ম সম্পন্ন করেন; জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী এম.ফার্ম পরীক্ষাটি ২০০৬ সালের হলেও ফল/পরীক্ষা-সংক্রান্ত বছর ২০০৮ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

শিক্ষাজীবনের এই ধারাবাহিকতা পরবর্তীকালে তাঁর পেশাগত জীবনের ভিত্তি তৈরি করে। বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল থেকে তিনি A Grade Pharmacist হিসেবে নিবন্ধন অর্জন করেন।

পেশাগত জীবন

আব্দুল আলীমের পেশাগত জীবন মূলত ওষুধশিল্পের মান নিয়ন্ত্রণ বা Quality Control-এর সঙ্গে যুক্ত। তিনি ১৯ জুলাই ২০০৬ সাল থেকে General Pharmaceuticals Limited-এ কর্মরত আছেন এবং তাঁর জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী বর্তমানে Senior Assistant Manager, Quality Control হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তাঁর পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে বিভিন্ন ডোজেজ ফর্মের Stability Study পর্যবেক্ষণ, ট্যাবলেট ডোজেজ ফর্মের বিভিন্ন পরীক্ষা, Reagent preparation ও standardization, cGMP ও GLP নির্দেশনা অনুসরণ এবং বিভিন্ন ল্যাবরেটরি যন্ত্রের calibration ও maintenance পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়া Stability Study-এর protocol preparation ও reporting, Finished Goods ও Market Return Products-এর analysis, analytical method validation, real-time stability study এবং বিভিন্ন instrument-এর SOP প্রস্তুত করার মতো দায়িত্বও তিনি পালন করেন।

তাঁর পেশাগত দক্ষতার ক্ষেত্রের মধ্যে High Performance Liquid Chromatography (HPLC), Gas Chromatography (GC), Automatic Potentiometric Titrator, ICP-OES, UV-Visible Spectrophotometer, IR Spectrophotometer, ATR এবং Karl Fischer Moisture Titrator-এর মতো আধুনিক বিশ্লেষণাত্মক যন্ত্র ব্যবহারের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

পেশাগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে তিনি Incepta Pharmaceuticals Limited-এ in-plant training সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি cGMP, ISO documentation, Validation and Calibration, SOP, updated specification, deviation report ও change control বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।

নাগা বাজারের সঙ্গে সম্পর্ক

আব্দুল আলীমের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তাঁর পিতা গাহের আলী মণ্ডলের স্বপ্ন ও উদ্যোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। কাতিলা এলাকায় একটি স্থানীয় বাজারকে ধীরে ধীরে একটি পরিচিত বাণিজ্যিক কেন্দ্রে রূপ দেওয়ার যে প্রচেষ্টা তাঁর বাবা শুরু করেছিলেন, আব্দুল আলিম সেই প্রচেষ্টায় পারিবারিক সহযোগিতা দিয়ে পাশে ছিলেন।

তিনি দীর্ঘদিন নিজেকে সামনে না এনে পরিবারের দায়িত্ব ও পেশাগত জীবনের দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। ছোট ভাই মোঃ গোলাম মোস্তফার সঙ্গে সমন্বয় করে বাবা-মায়ের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো দেখাশোনা করাও তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের অংশ ছিল। ফলে নাগা বাজারের বিকাশের ইতিহাসে তাঁর অবদানকে শুধু একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগের সঙ্গে নয়, বরং একটি পারিবারিক ও সামাজিক স্বপ্নের ধারাবাহিকতার সঙ্গেও দেখা যায়।

সময়ের সঙ্গে নাগা বাজারের পরিচিতি বাড়ার পাশাপাশি আব্দুল আলীম ও ধীরে ধীরে এই উদ্যোগের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা প্রকাশ্যে তুলে ধরছেন। তাঁর এই আত্মপ্রকাশ মূলত ব্যক্তিগত প্রচারের জন্য নয়; বরং তাঁর পিতার উদ্যোগ, পরিবারের অবদান এবং এলাকার সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ইতিহাসকে সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।

বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব

আব্দুল আলীমের ব্যক্তিজীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে তাঁর বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্বশীলতার কথা উল্লেখ করা যায়। প্রয়াত গাহের আলী মণ্ডলের জীবদ্দশায় পরিবারের বিভিন্ন প্রয়োজনে তিনি ছোট ভাই গোলাম মোস্তফার সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন। পিতার উদ্যোগ ও পারিবারিক কর্মকাণ্ডে সন্তান হিসেবে পাশে থাকার এই ভূমিকা নাগা বাজারের ইতিহাসের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে।

নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি বাজারের বিকাশকে শুধু ব্যবসায়িক বিষয় হিসেবে দেখেননি; বরং এর সঙ্গে স্থানীয় মানুষের যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, কেনাবেচা এবং এলাকার সামাজিক জীবনের সম্পর্ককেও গুরুত্ব দিয়েছেন।

সামাজিক কর্মকাণ্ড ও সংগঠক হিসেবে ভূমিকা

পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি আব্দুল আলিম বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্বেচ্ছায় যুক্ত থাকার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে বীরকুৎসা অবিনাশ স্কুল ও কলেজের বিভিন্ন সাংগঠনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে আগ্রহী।

এছাড়া Rajshahi University Pharmacy Graduate Association (RUPGA)-এর সঙ্গেও তাঁর সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা রয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে সহপাঠী ও পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণ তাঁর সামাজিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

এই ধরনের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার মাধ্যমে তিনি ব্যক্তিগত পেশাগত পরিচয়ের বাইরে একটি বৃহত্তর সামাজিক ও পেশাজীবী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

পারিবারিক জীবন

মোঃ আব্দুল আলীম ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে মোছাঃ শামীমা খাতুন-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। শামীমা খাতুনের জন্ম ৩১ ডিসেম্বর ১৯৮৯। তাঁদের একমাত্র পুত্র মোঃ শাদমান শাবাব, যার জন্ম ৩০ আগস্ট ২০১৭।

পরিবার তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। পেশাগত দায়িত্ব, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রেখে চলার চেষ্টা তাঁর জীবনযাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য দিক।

নেপথ্য থেকে প্রকাশ্য পরিসরে

আব্দুল আলীমের জীবনের গল্পের একটি বিশেষ দিক হলো—তিনি দীর্ঘ সময় নেপথ্যে ছিলেন। পিতার প্রতিষ্ঠিত উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থেকেও নিজের ভূমিকা প্রচারের দিকে খুব বেশি মনোযোগ দেননি। পেশাগত জীবন ও পারিবারিক দায়িত্ব পালন করাই ছিল তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার।

কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নাগা বাজারের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সামনে আসছে। সেই প্রেক্ষাপটে আব্দুল আলিমও ধীরে ধীরে প্রকাশ্য পরিসরে আসছেন। তাঁর এই আবির্ভাবকে একটি ব্যক্তিগত উত্থানের চেয়ে বরং একটি পারিবারিক ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়াস হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

নাগা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা গাহের আলী মণ্ডলের স্বপ্ন, পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ—এই তিনটি ধারার সমন্বয়েই বাজারটির বিকাশ ঘটেছে। মোঃ আব্দুল আলীম সেই ধারাবাহিকতার একজন প্রত্যক্ষ উত্তরাধিকারী।

ভবিষ্যৎ ভাবনা

একজন পেশাজীবী, ফার্মাসিস্ট, পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তি হিসেবে মোঃ আব্দুল আলীমের সামনে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নাগা বাজারের ইতিহাস, প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের অবদান এবং এলাকার সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবর্তনকে দলিলভিত্তিকভাবে সংরক্ষণ করা তাঁর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে।

তাঁর শিক্ষাগত ও পেশাগত অভিজ্ঞতা, সংগঠক হিসেবে সম্পৃক্ততা এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছু মিলিয়ে তিনি নাগা বাজারের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পর্বের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারেন।

উপসংহার

মোঃ আব্দুল আলীমের জীবনকে একক কোনো পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না। তিনি একজন ফার্মাসিস্ট ও পেশাজীবী, একজন পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তান, প্রয়াত গাহের আলী মণ্ডলের সন্তান এবং নাগা বাজারের বিকাশের নেপথ্যের একজন সহযোগী। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত একজন ব্যক্তি।

দীর্ঘদিন নেপথ্যে থাকার পর তাঁর ধীরে ধীরে প্রকাশ্য পরিসরে আসা নাগা বাজারের ইতিহাসের একটি নতুন অধ্যায় তৈরি করছে। তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের সঙ্গে তাঁর পিতার স্বপ্ন, পরিবারের ত্যাগ এবং স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশার একটি সম্পর্ক রয়েছে। সেই অর্থে মোঃ আব্দুল আলীমের গল্প শুধু একজন ব্যক্তির জীবনী নয়; এটি একটি পরিবার, একটি বাজার এবং একটি স্থানীয় সমাজের পরিবর্তনের ধারাবাহিকতারও অংশ।